Tag: Kabita

জলতরঙ্গ (শুভেন্দু ধাড়া)

আমাকে প্রেমিক নাও ভাবতে পারো।

হিমাঙ্ক তাপ জড়তা ছড়িয়ে দিলে
দ্বিধা বিভক্ত হাত গোলাপ অঞ্জলির স্পর্ধায়
নির্লজ্জ হতে পারেনি ।
অথচ কলেজ ফেরা পথ চুপিসারে রেখেছিল অপেক্ষায়
আমার চৈত্রমাস ।

আর ফাগুনের আগুন রেখে তোমার উচ্ছল ঢেউ
বাঁধ ভেঙ্গে দৈবাৎ দাবানল হয়ে গেলে
অজস্র কিট-পতঙ্গ ছুঁতে চায় জৈবিক সার্থকতা,
তখন নিতান্তই কাব্যিক বেদনায় মুখ ঢেকে
সমস্ত ইচ্ছে-ডানা আমার চিলেকোঠায় নির্বাসিত ।

অতঃপর রাত ঘুম জমে নির্দ্বিধায় দেওয়ালে দেওয়ালে
কোনারকীয় ভাস্কর্য হয়ে ওঠে ।

এই সব পাতা যা একটু গোচর পেলে
মুহূর্তকালে ফুল হয়ে যেত ,
তুমি পড়েও দেখনি ।

যেমন দেখনি একবারও বেবাক জলতরঙ্গে অদ্ভুত
আজ কেমন করে দিঘী নাস্তানাবুদ
চাঁদের ছায়াটুকুতেই !!

 

 


 

তারপর… (শুভেন্দু ধাড়া)

তারপর ?

তারপর…

লাল নীল আলোয় কেমন হাসতে হাসতেই
রেণু মিশে গেল অন্য পরাগে ।

আমি আমাকে খুঁজে পেলাম হিরোশিমা’র ধ্বংস স্তূপে ।
এখনও তার আরোপিত প্রভাব
মুছা গেল না !

 


 

 

 

 

সুখের মতো এক বোধ

সুখের মতো এক বোধ কাজ করে
            তাই ভুলে যাই –
            আমি নই আমি নই
আমার আমিত্ব কাজ করে
সুখের মতো এক ঘুম ঘোরে |

এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বটবৃক্ষ –
অজস্র মায়ার মতো – আমিত্ব-হীন |
যদি – ব্রহ্মাণ্ডে কোথাও – কখনো –
এক অভিকর্ষ-হীন –
             বলহীন – আকৃতিহীন – আমিত্বহীন
             শুধু এক অস্তিত্ব – শুধু শক্তি –
আমি জানি – আমিই সেই ||
তবু সুখের মতো এক আমিত্ব গড়ে তোলে |

আমিই সেই বৃদ্ধ –
জরা -মৃত্যু – ভয় – অতি দীন বিদীর্ণ চিত্ত –
আমিই সেই নারী –
জন্ম – মৃত্যু – সৃষ্টি – ধ্বংস
সেই ঈশ্বরী |

আমিই সেই হ্যামিল্টনের মায়া
         আমিই সেই আদুরে সোহাগী হাওয়া |
আমিই সেই ভক্তি –
আমি জানি – আমিই সেই
আমিত্বহীন শক্তি ||

তবু কেন – কেন এক
সুখের মতো বোধ কাজ করে ??

 


 

নীল হেমন্ত

আমাদের চোখ যদি নীবিড় হয়
আমাদের মুখ যদি ঘন হয়
আমাদের ঠোঁট যদি সিক্ত হয় –
           অন্য প্রেম যদি গুঁড়ো গুঁড়ো হাওয়ায় ভেসে……
           ধুলার মতো অথবা
           রেণূর মতো উড়ে যায় –
           উড়ে যায় –
আমাকে সিক্ত করে – আমাকে নিষিক্ত করে ॥
আমাদের মন যদি পোয়াতি হয় ॥

সাঁঝ বেলা – ধুপ – প্রদীপ –
ভিড়ে ঠাসা – গাদাগাদি – রক্তাক্ত যৌবন
সূর্যাস্তের মলীন ছোঁয়া
রমণীর খোঁপার মতো
পরিপাটি চাঁদ –

আমাদের দু পা যদি আড়ষ্ট হয় –
আমাদের বার্ধক্য যদি লগ্নভ্রষ্টা হয় –
আমাদের শুষ্ক হৃদয়
অচল মন – আর – নীরেট প্রেম –
           বার্ধক্য যদি……………

আমাকে ছড়ায়ে দিও হেমন্তের মতো ॥

If Bengali Not Came

যদি একটু দাঁড়াও (শুভেন্দু ধাড়া)

এক  মুহুর্ত যদি থামো ,বলতাম ভালোবাসো
এক মুহুর্ত  যদি  দাঁড়াও ,হাত দুটি বাড়িয়ে দিতাম

যে পুড়ছে অবিরত যতুগৃহে,
কাঙ্গাল  সে  কাঙ্গাল  ইন্দ্রধেণু’র ।

“ফুল সে তো গন্ধ ছড়িয়েই খালাস !
পাগল  ভ্রমর আজ মাতাল,  দেবদাস ।”

মধু আলিঙ্গনে দুই বাহু যদি বন্দি বানাতে চায়
অনন্ত জলরাশি ভাসিয়ে নিয়ে যায় !
       এও কি অপরাধ  তার ?

পালকের পরশ লাগে, কাশ ফুলে শিহরন । বসন্ত !
তুমি কবে আসবে ? না  কি এসেই পড়েছ !
বুছতে পারছিনা, দেখতে পাচ্ছি  না ,
চোখ হতে নীল তারা দুটি তুলে নিয়েছো  সেই কবেই,
সেথা এখনো রক্ত ঝরে ।

দেবী , যদি একটু দাঁড়াও ,
না হয় পুজার ছলেই কলিজাটুকুও অরপন করি তোমায়,
        তুমি সন্তুষ্ট হবে তো ?

Announcements

  • আপনাদের আশীর্বাদে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ অষ্টম বর্ষ অতিক্রম করলো। আমরা আমাদের এই site টি নতুন ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম। আপনাদের মতামত জানান আমাদের email এ (info@amarbanglakobita.com)। বিশদ জানতে contact us menu দেখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
  • আনন্দ সংবাদ! আমাদের এই site এ এবার থেকে গল্প, অনু গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস প্রকাশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
  • Hello everyone, We have started our english poetry and story section with some content from our beloved kids. Please keep your blessings on them.

Recent Comments

Editorial Choice