Tag: Amitava

মেঘলার রূপকথা

ট্রেনটা কখন যেন শ্বাপদের মতো চুপিসাড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

সারা রাস্তা বয়ে আনা বোঝাটা পাশে সরিয়ে মন চায় –
আরও একটু স্পর্শ।
সেই আমি – আর – তুমি;
ঠিক হারিয়ে যাওয়ার আগে –
নতুন দিনের মতো।

তোলপাড় করে ওঠে আমার নিটোল বুনোট।
ফিস ফিস করে জানান দেয় – শ্বাপদটা –
সময় শেষ হওয়ার যন্ত্রনা।

ঠিক সেই সময় দেখি –
তুমি তখনও দরকষাকষিতে ব্যস্ত –
আরও দু চার পয়সার সস্তা সাশ্রয়।

এইভাবেই –
ধীরে ধীরে কুয়াশায় মধ্যবিত্ত প্রেম –
মধ্যবর্তী – হয়ে যায়।
শুধু ঝাপসা আলোয় হয়তোবা দু ফোঁটা জলের রেখা –
দু হাত শূন্যে তুলে গর্জে ওঠে –
অপূর্ণতা যদি কিছু থেকেও যায় –
তা কিছু বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নয় -।

‘আসি রে’ – আমার বিকেল

বিকেল টা অনেক্ষন একলা বসেছিল ছাদের কিনারে।
তারপর রং চটা ম্যাড়ম্যাড়ে একটা হলুদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো –
আসি রে।
বললো কিন্তু ঠোঁট নড়লো না – একটুও।

তারে তারে – জট পড়ে যাওয়া একটুরো আকাশ –
আর সেই নিঃসঙ্গ বিকেল।
ঘাড় কাত করে ইতি উতি দেখলাম।
নাঃ, একটা পানসে লোনা হাওয়া ছাড়া –
আর তো কিছুই চোখে পড়ে না।
– তবে, বললো তো! কিন্তু কাকে বললো?

বিকেল কি কাউকে সারাদিনের বারোমাস্যা শোনাতে বসেছিল?
এ সব তো কখনো ইতিহাস হয় না ;
এ সব কি কখনো ফ্রেম বন্দি হয় ?
জানি না। হয়তো হয় -।

তবে এটুকু জানি –
এখান থেকে গড়াতে গড়াতে সান্তাক্রূজ হয়ে –
তারপর ছুটি।
আরো জানি – কতটা পথ তাকে যেতে হবে ।
আরো কত বার এই মন খারাপের বার্তা দিতে হবে তাকে –
‘আসি রে’।

একটা লোনা পানসে হাওয়ায় – হলুদ স্বপ্নের মতো মুছে নিতে নিতে
ফিরে যাবে – আমার সাধের বিকেল।
কখনো আমার হাতের চুম্বন মিশে যাবে আরবের জলে –
কখনো আফ্রিকার জঙ্গল ফেলে চলে যাবে সে।

তবে –
সেই অতৃপ্ত – ক্ষয়ে যাওয়া ঝাপসা আলোয়,
এই বার্তা, প্রেমিকের মতো –
চোখ ছুঁয়ে বলে যাক – শেষ বার –
‘আসি রে’, – আমার বিকেল।


                    (অমিতাভ বাগ)

পান্তুদা – টা

পান্তুদা – টা
লড়তে জানে – চরতে জানে –
রাগ হলে তার –
কাউকে ধরে মারতে জানে –
কানটি টেনে মুলতে জানে।
.
.
.
.
.
.
.
.
হায় রে –
.
.
.
এভাবেও সে ভাবতে জানে।


                    (অমিতাভ বাগ)

(এই নামটি নিছক কৌতুকরস সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তথাপি কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। চরিত্রটিও নিছক কাল্পনিক। দয়া করে, এর সাথে বাস্তবে কাউকে মেলাতে যাবেন না। )

বিশেষ দ্রষ্টব্য :
এই বিষয়ে উল্লেখ্য, এই কবিতাটির প্রথম পর্ব টি অবশ্যই পড়বেন নিচের লিংক টি থেকে।

পান্তুদা

 

পান্তুদা


আমাদের ও পাড়ার পান্তুদা, কে জানো ?
শলাকার কলেবর – হাতে গোঁফ প্যাঁচানো।
আষাঢ়ের মেঘে মেঘে তারা গোনা চাই তার,
বৃষ্টিতে হেঁচে কেশে – ঝালে ঝোলে কদাকার।

এ হেনো পান্তুদা – বসে যদি কাজেতে –
একমনে ঘেঁটে যায় টেকো চুল টিকিতে।
যোগ ভাগ গুন্ গুলো ধোঁয়া ওঠে দেখো ওই –
রাগে চোখ টন টন – পুড়ে খাক যত বই।
দাঁতগুলো তাগড়াই – হয়তোবা রাগেতে –
এঁকে বেঁকে চলে যায় – দু ঠোঁটের মাঝেতে।
কষ থেকে মাঝে মাঝে বয়ে যায় খুশবু –
বেনারসি পান চাই – নোলা হয় বেকাবু।

এ হেনো পান্তুদা – চাপে যদি বাসেতে –
গম্ভীর হয়ে যায় – দমফাটা হাসিতে।
গায়ে পড়ে কাতুকুতু খেয়েদেয়ে একাকার –
নেমেপড়ে হেঁটে যায় – হোক না সে রবিবার।

(অমিতাভ বাগ)

(এই নামটি নিছক কৌতুকরস সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তথাপি কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। চরিত্রটিও নিছক কাল্পনিক। দয়া করে, এর সাথে বাস্তবে কাউকে মেলাতে যাবেন না। )

কিছু কথা

কিছু কথা – কখনও বলা হয় নি – ।
জানালার ধারে – মাথা এলিয়ে –
বৃষ্টি যখন আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিতো –
পরতে পরতে ভিজে হাওয়ার নরম ছোঁয়া –
বড় ভালোবাসতাম।

গোধূলি হাওয়ায় – রং তুলি সাজানো ক্যানভাস –
তোমার শূন্য দৃষ্টির মতো – সাজানো শস্য ,
অথবা উষ্ণ নিঃশ্বাসের ঘ্রান
আমায় মাতাল করে দিতো –
বড় ভালোবাসতাম।

কখনও বলা হয় নি –
এখনও বলা হয় নি – কিছু কথা
ভালোবাসতাম – বলা হয় নি – ।

Announcements

  • আপনাদের আশীর্বাদে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ অষ্টম বর্ষ অতিক্রম করলো। আমরা আমাদের এই site টি নতুন ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম। আপনাদের মতামত জানান আমাদের email এ (info@amarbanglakobita.com)। বিশদ জানতে contact us menu দেখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
  • আনন্দ সংবাদ! আমাদের এই site এ এবার থেকে গল্প, অনু গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস প্রকাশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
  • Hello everyone, We have started our english poetry and story section with some content from our beloved kids. Please keep your blessings on them.

Recent Comments

Editorial Choice