এমন এক ঘুম চাই
আমি আরও – অনেক গভীর ঘুম চাই –
যে ঘুম তোমার তরল বাসনার থেকেও মদির –
তোমার অসূর্যস্পর্শা অধরের থেকেও গাঢ।
তোমার ললাটের থেকেও দীঘল –
তোমার বায়বীয় আত্মার থেকেও নশ্বর –
ঘুম চাই ।
তোমার নাটকীয় চাহনির থেকেও পরকীয়া –
এমন এক ঘুম চাই ।
আমি আরও – অনেক গভীর ঘুম চাই –
যে ঘুম তোমার তরল বাসনার থেকেও মদির –
তোমার অসূর্যস্পর্শা অধরের থেকেও গাঢ।
তোমার ললাটের থেকেও দীঘল –
তোমার বায়বীয় আত্মার থেকেও নশ্বর –
ঘুম চাই ।
তোমার নাটকীয় চাহনির থেকেও পরকীয়া –
এমন এক ঘুম চাই ।
ফুলকুমারী ফুলকুমারী
তোর সাথে আর নয়কো আড়ি।
জানিস না তুই –
রাগটি আমার শরীর জুড়ে
মান অভিমান আকাশ ফুঁড়ে।
খেলনাগুলো নিজের মনে
হারায় কেন অন্ধ কোনে ?।
স্নানের সময় জল নিয়ে তাই
ঘণ্টা খানেক খেলতে যে চাই
বারণ করলে যুদ্ধ বাধে –
গুণ্ডা কি আর এমনি সাজে ?
গোপাল বলিস, সোনা বলিস, লক্ষ্মী বলিস রাই –
মন যে আমার ভিজবে না রে – যখন যেটা চাই –
তখন যদি বারণ করিস, কাট্টি তবে –
ভাবছিস কি ? ভাবটি আবার এমনি হবে ?
গাড়ি চাই – বেলুন চাই – চাই যে কত কিছু
ঘুড়িও চাই । অনেক লিস্টি আছে পিছু পিছু।।
তবেই বলি দুষ্ট আমি – মিষ্টি নই যে –
ভুলবো আমি অল্পে-তে ?!
যতই ভোলাস্ – আকাশ কুসুম গল্পে-তে।।
ওপার বাংলায় দ্যাশ আমার;
ফরিদপুরে ভিটে।
বাবা সকালে উঠে গামছা গলায়,
লাঙলে হাত দিত,
আর মা, আমার আর ভাইয়ের জন্য রান্না চাপাত।
পান্তা ভাত খেয়ে আমি আর ভাই পেয়ারা গাছে উঠতাম চড়ে,
“ও বালি! বাবু আয়, একবারটি এদিকে, বাবুর খাবারটা দিয়ে আয়।”
“আসছি মা! এই দিদি আরেকটু পরে।”
পাশের গাঁয়ের দুলাল চাচা নাম রেখেছিল বালি। ওর মেয়েটা কালাজ্বরে মরেছে,
ছেলেটা বোধহয় বর্ডারে আর বৌটা! আস্ত পাগলি!
পুকুরের ধার ঘেষে যাচ্ছিলাম,
দেখছিলাম শিবু আর পিসি কে,
দেখছিলাম লম্বা চুল কতটা,
যাচ্ছিলাম বাবুর পাঠশালার ওপাশ দিয়ে।
বাবু যখন ছোট ছিল,
আমার কোলে ঘুমোতোইনা,
আমি মারলে খিল-খিল করে উঠত হেসে।
‘খোকা ঘুমাল, পাড়া জুরাল, বর্গি এল দেশে..’
এক রাত্রে কি যে হল, কে জানে,
সেরম কিছু মনে নাই,
কেরম পোড়া পোড়া গন্ধ, কালো কালো ধোয়া,
লোকের হাহাকার, চিরবির আওয়াজ,
হঠাৎ মা বাবুকে আর আমাকে টেনে তুলে,
ছুড়ে ফেলল বাইরে, পিছনের বাঁশ বাগানে।
“পালা বালি পালা! বালি পালা!”
আমি ছুটলাম, খুব ছুটলাম।
দুটো লোক মশাল নিয়ে ধেয়ে আসছে,
আর বাবু?
নেই আমার পাশে।
চোখ খুলল কাঁটাতারের পাশে,
বর্ডারের কাঁটাতার।
কাপড়টা পাশ দিয়ে এক হাত ছেঁড়া।
পেরোলাম কাঁটাতার,
পেরোলাম ধান খেত,
পেরোলাম অজস্র কাদা,
পেরোলাম আগের রাতের ধোঁয়া,
পেরোলাম মুক্ত বাতাস,
পেরোলাম দুলাল চাচার ছাই হয়ে যাওয়া ঘর,
পেরোলাম রক্ত,
পেরোলাম পোড়া হাট,
পেরোলাম দানগুলির গুটি,
পেরোলাম বুবুর টুকরো কাপড়,
পেরোলাম ছেঁড়া রুটি।
পেরোলাম পুলিশ,
পেরোলাম সূর্যের আলো,
আর পেরোলাম বালি…
বালি…
বালি… বালি…
তার চেয়ে তো সন্ধে আসে তাড়াতাড়ি,
তবু – প্রতি সন্ধ্যায় তার আসা হয় না –
অকারণ ভিড়ে – ভাসতে ভাসতে –
নতুন কিছু মানুষ দেখা।
নতুন কিছু মুখ – নতুন কিছু –
তবু তার আসা হয় না।
আসবে বলে এসেছিলো কখনো ?
অথবা আসবো বলেছিলো ?
মনেও কি আছে সেসব ?
সেই সাড়ে সাত যুগ আগে -।
নদী বক্ষে এতো চর ছিল না –
বাঁধটাই হয়তো ছিল না।
মনেও কি পড়ে না ?
মাত্র সাড়ে সাত যুগ আগে -!
মুহূর্তরা সব মমির মতো –
জাল বুনতে সময় লাগে –
…সাড়ে সাত যুগ লাগে।
ক্লান্ত কারা যেন বলে গেলো
দেখা হবে আজ|
সকাল থেকে তৈরি হয়েছি|
স্মৃতি থেকে তুলি করে তুলে
এনেছি তোমার সাথে কাটানো
মন কেমন করা বিকেলের রঙ|
যত্নে লাগিয়েছি গালে|
কথা ছিলও দেখা হলে
ধরা দিতে হবে|
এখন শুধু তারই অপেক্ষা|
মেঘ রঙা কাজল চোখে দেওয়ার
বড়ো সাধ| তবু মনে ভয়|
মেঘেই তো লুকিয়ে বৃষ্টি|
রক্তাক্ত ঠোঁটে অভিসারে যাই|
Recent Comments